পুত্রবধূর পরকীয়ার বলি বৃদ্ধা শ্বাশুড়ীকে গলাটিপে হত্যা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Sunday, May 31, 2026,
  • 69 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

পিরোজপুর প্রতিনিধি :: পুত্রবধূর পরকীয়ার বলি বৃদ্ধা শ্বাশুড়ীকে গলাটিপে হত্যা

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় পরকীয়ার জেরে এক বৃদ্ধা শাশুড়িকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ, তার কথিত প্রেমিক ও এক আত্মীয়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে নিহত নমিতা রানী পালের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল বাদী হয়ে জিয়ানগর থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় পুত্রবধূ বন্যা রানী পাল (৩২), কথিত প্রেমিক কামাল পঞ্চায়েত (৫৫), তাপস দেবনাথ (৪৪) এবং আরও দুই অজ্ঞাতনামাকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। এই ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূ ও তার মামাকে পুলিশ আটক করেছে।

শুক্রবার (২৯ মে) সকালে জেলার জিয়ানগর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারন গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম নমিতা রানী।

তিনি ওই এলাকার রাধে শ্যামের স্ত্রী। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনার।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদের দিন বৃহস্পতিবার রাতে নিজ ঘরের খাটের ওপর ঘুমিয়ে ছিলেন নমিতা রানী। সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান রাধে শ্যাম। আলাদা ঘরে থাকতেন নমিতা রানী।
রাত সাড়ে আটটার দিকে চন্ডিপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে ডাকাডাকি করেন রাধে শ্যাম। তখন ঘরের দরজার সিটকানি খোলা দেখতে পান তিনি।

নিহতের পরিবারের দাবি, পুত্রবধূ বন্যা রানী পালের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিন চন্ডিপুর গ্রামের কামাল পঞ্চায়েতের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিলো। কামাল সন্ধ্যার পরে নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতো। রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা ঐ বাড়িতে অবস্থান করতো। আবার কখনো দিনের বেলাও ঐ বাড়িতে যাতায়াত করতেন তিনি। পুত্রবধূর সাথে এ অনৈতিক সম্পর্ক নজরে পড়ায় প্রায় সময়ই বাধা দিতেন শাশুড়ি নমিতা রানী।
এদিকে পুত্রবধূর এ পরকীয়া সম্পর্কে শাশুড়ি মাঝখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানোয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পুত্রবধূ বন্যা রানী, তার মামা তাপস দেবনাথ ও কামাল পঞ্চায়েত মিলে নমিতা রানীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে নিহতের স্বামী,মেয়ে ও নাতির অভিযোগ। ঘটনার পর ঐ রাতে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে কামাল পঞ্চায়েত পরিস্থিতি খারাপ দেখে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। নিহতের স্বজনেরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
নিহতের মেয়ে রঞ্জিতা ও নাতি-নাতনিরা অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের মা ও দিদাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নিহতের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল জানান, ঘটনার সময় তিনি ঘরে ছিলেন না। পরে ফিরে এসে ঘরের সিটকানি খোলা দেখতে পান। ঘরে ঢুকে স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

এছাড়া অভিযুক্ত বন্যা রানী পালের ফুফা বরগুনার কোরব এলাকার তাপস দেবনাথ (৪৪) ঘটনার সময় ওই বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, তিনিও এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বন্যা রানী পাল ও তাপস দেবনাথকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। পরে এই মামলায় তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ মহব্বত খান জানান, জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো:মোহব্বত খান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক দুজনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo