নিউজ ডেস্ক :: বামনায় বিএনপি নেতার নেতৃত্বে জামায়াত কর্মীকে কুপিয়ে জখম, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা দেড় লাখ টাকা লুট
বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা বাজারে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করায় সোহেল তানভীর নামে এক মিষ্টি ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জামায়াত কর্মীর ওপর দুই দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি তাঁর দোকান থেকে নগদ টাকা লুট ও মালামাল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়ার সময় পুলিশ ব
বামনায় বিএনপি নেতার নেতৃত্বে জামায়াত কর্মীকে কুপিয়ে জখম, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা দেড় লাখ টাকা লুট
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা বাজারে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করায় সোহেল তানভীর নামে এক মিষ্টি ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জামায়াত কর্মীর ওপর দুই দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি তাঁর দোকান থেকে নগদ টাকা লুট ও মালামাল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়ার সময় পুলিশ বাধা দিয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে।
আহত সোহেল তানভীর বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা বাজারের একজন পরিচিত মিষ্টি ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
দুর্নীতির প্রতিবাদের জেরে হামলার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ডৌয়াতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, বিশেষ করে খাল খনন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আসছিলেন সোহেল তানভীর। তিনি এ সব বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একাধিক পোস্ট করেন এবং স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং বেশ কিছুদিন ধরে তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সোহেল তানভীর এসব হুমকির বিষয় প্রকাশ্যে তুলে ধরেন।
দুই দফা হামলা, রক্তাক্ত জখম
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি সোহেল তানভীরের মিষ্টির দোকানে প্রবেশ করে তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাত ৮টার দিকে বাজারে লোকসমাগম কমে গেলে দ্বিতীয় দফায় আরও ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। যা ভিডিও ফুটেজ সহ হামলার ঘটনা দেখা যায় , অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব ও ৪ নং দৌহাতলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আবু সালে হাওলাদার এর নেতৃত্বে এ হামলার করেন অনুসারীরা । দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সোহেল তানভীরের ওপর পুনরায় আক্রমণ করে। হামলাকারীরা তাঁকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
এ সময় হামলাকারীরা তাঁর দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে নগদ টাকা দেড় লক্ষ টাকা লুট করে এবং দোকানের মালামাল ভাঙচুর করে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
উন্নত চিকিৎসায় বাধার অভিযোগ
হামলার পর স্থানীয় লোকজন রাত ৯টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় সোহেল তানভীরকে উদ্ধার করে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় দ্রুত সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন।
বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সারা কালাম আজাদ বলেন, “রোগীর মাথার আঘাত গুরুতর হওয়ায় দ্রুত সিটি স্ক্যান করা প্রয়োজন বলে আমরা পরামর্শ দিয়েছি।”
কিন্তু উপজেলা সদরে সিটি স্ক্যানের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে বরিশালে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। এ সময় বামনা থানা-পুলিশ অ্যাম্বুলেন্সের গতিরোধ করে এবং তাঁকে বরিশালে নিতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, পুলিশের হস্তক্ষেপে আহত সোহেল তানভীরকে পুনরায় স্থানীয় হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। এতে তাঁর চিকিৎসা বিলম্বিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আবু সালেহ হামলার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন সোহেল বিভিন্ন সময় আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আজেবাজে পোস্ট দেয়ায় তার জন্য পোলাপান হামলা চালিয়েছে পোলাপান তোর আর বসে থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, “সোহেল বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ভাষায় লেখালেখি করে আসছিলো । এতে অত্র ইউনিয়নের বিএনপির নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে তার বিরুদ্ধে । তারা তাকে এসব বন্ধ করতে বলেছিল, পরে কী ঘটেছে তা আমি অবগত নই। এ