সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা চালুর দাবি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Tuesday, August 11, 2026,
  • 6 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা চালুর দাবি

সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা চালুর দাবিতে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে একক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সজল কুমার পাল নামে এক সাধারণ নাগরিক।

‎সোমবার (১০ আগস্ট) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন তিনি। ‘রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা ল্যাব খোলা থাকলে বাঁচবে গরিবের জীবন ও টাকা’—এমন বিভিন্ন স্লোগান ও দাবি তুলে ধরেন সজল।

‎কর্মসূচিতে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে থাকা এক্স-রে, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা গেলে রাতে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হবে না। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতাল থেকেও বাড়তি রাজস্ব আয় করা সম্ভব হবে।

‎সজল কুমার পাল বলেন, “নতুন করে কোটি কোটি টাকা খরচ করে যন্ত্রপাতি কেনার প্রয়োজন নেই। সরকারি হাসপাতালগুলোতে থাকা যন্ত্রপাতিই ২৪ ঘণ্টা ব্যবহার করা সম্ভব। শুধু রাতের শিফটের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করতে হবে। আর পরীক্ষার ফি থেকে যে অতিরিক্ত আয় হবে, তা দিয়েই তাদের বেতনসহ পরিচালন ব্যয় মেটানো সম্ভব।”

‎তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালের অব্যবহৃত বাজেটের একটি অংশ এ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। পরীক্ষার ফি পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায় করে সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং অর্থ আত্মসাতের সুযোগও কমবে।
‎কর্মসূচিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পরীক্ষার খরচের তুলনাও তুলে ধরা হয়।

‎আয়োজকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সরকারি
‎ মূল্যে CBC ২০০ টাকা, RBS ৬০, সিরাম ক্রিয়েটিনিন ৫০, SGPT ৭০, HBsAg ১৫০, প্রস্রাব R/E ২০, বুকের এক্স-রে ২০০ এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম W/A ২২০ টাকা। এসব পরীক্ষায় মোট খরচ ৯৭০ টাকা।

‎অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একই পরীক্ষাগুলোর জন্য যথাক্রমে ৪০০, ২৫০, ৪০০, ৫০০, ৭০০, ৩০০, ৬০০ ও ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এতে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৫০ টাকা।

‎সজল বলেন, “একজন সাধারণ মানুষকে সরকারি ব্যবস্থায় ৯৭০ টাকায় করা সম্ভব এমন পরীক্ষার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৪ হাজার ৫৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। রাতের সময়ে সরকারি ল্যাব বন্ধ থাকায় দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”

‎২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা চালু হলে দালালের দৌরাত্ম্য কমবে দাবি করে তিনি বলেন, রাতে সরকারি ল্যাব সচল থাকলে রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার খরচের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক কেনার প্রবণতা কমিয়ে রোগ নির্ণয় সহজ করা সম্ভব হবে।

‎তিনি আরও বলেন, “সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে শুধু রোগীদের খরচই কমবে না, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও ‘টেস্ট বাণিজ্য’ বা প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী পাঠানোর যে অভিযোগ ওঠে, সেটিও অনেকাংশে দূর হবে। পাশাপাশি সারাদেশে এ ব্যবস্থা চালু হলে দক্ষ টেকনোলজিস্টসহ হাজারো তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।”

‎কর্মসূচি থেকে সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যায়ক্রমে ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা চালু, ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষার ফি আদায় এবং সরকারি মূল্যে দিন-রাত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo