শিরোনামঃ
বরিশাল রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যানকে বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম নাসরীনের ফুলের শুভেচ্ছা উজিরপুরে ৭৫ লাখের সড়কে দুই মাসেই ধস: তদারকি নিয়ে প্রশ্ন, আঙুল এলজিইডির দিকে বরিশালে ইয়াবা কিনতে গিয়ে গণধোলাই এর শিকার কলেজ কর্মচারী কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু মৃত মুক্তিযোদ্ধার গেজেট নিয়ে ‘নাম কাড়াকাড়ি’, ১০ মাসেও শেষ হয়নি তদন্ত মাদক নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে বন্দিশালা: ডিবি হারুনকে নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১৩ কর্মকর্তা বদলি বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম বিদেশিদের ব্যাংক হিসাব খোলার নতুন নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক তাজা মাছের চড়া দাম, ঘুষের বাজার নামে পরিচিত বরিশালের চৌমাথা বাজার

তাজা মাছের চড়া দাম, ঘুষের বাজার নামে পরিচিত বরিশালের চৌমাথা বাজার

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Thursday, August 20, 2026,
  • 3 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: তাজা মাছের চড়া দাম, ঘুষের বাজার নামে পরিচিত বরিশালের চৌমাথা বাজার

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী চৌমাথা বাজার। এক শতাব্দী ধরে বরিশালবাসীর তাজা মাছ ও সবজির চাহিদা মিটিয়ে আসছেন এ বাজারের ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারটিতে উচ্চমূল্য নিয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিতর্ক। আর এ কারণে বাজারটি ‘ঘুষের বাজার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। বলা হয়ে থাকে, শুধু বিত্তবান ও যাদের বাড়তি আয়ের সুযোগ আছে, তারাই এ বাজারে কেনাকাটা করে থাকেন। এ জনশ্রুতি থেকেই কালক্রমে বাজারটির নাম হয়ে যায় ‘ঘুষের বাজার’। আর এ তকমার নেতিবাচক প্রভাব বাজারটির দীর্ঘ বছরের জৌলুস ও ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

জানা গেছে, বরিশাল নগরীর হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকায় পাকিস্তান আমলে এ বাজারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। শুরুর দিকে মাত্র চারজন মৎস্য ব্যবসায়ী ছিলেন চৌমাথা বাজারে। আজ সেখানে খুচরা ব্যবসায়ী শতাধিক এবং আড়তদার আছেন আটজন।

প্রতিদিন বিকেল ৫টার পর থেকে এ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগম শুরু হয়, কেনাবেচা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। রাত প্রায় দেড়টা থেকে দুইটা পর্যন্ত। এ কারণে বাজারটি ‘নৈশ বাজার’ হিসেবেও অনেকের কাছে পরিচিত। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, চৌমাথা বাজারে নদ-নদীর বড় বড় তাজা মাছ, সবজি, মাংস, মুরগি, ডিম ও নানারকম মসলা—সবকিছুই পাওয়া যায়; কিন্তু বরিশাল নগরীর অন্য যে কোনো বাজারের চেয়ে এই বাজারে পণ্যমূল্য অনেক বেশি। বিশেষ করে এখানকার মাছ বাজারে মূল্যের অস্থিরতা সব সময় সমান। কেননা, অন্য বাজারের তুলনায় এ বাজারে মাছের দাম মণপ্রতি মূল্যের ব্যবধান দাঁড়ায় দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। যে কারণে এ বাজার থেকে মাছ-সবজি কেনা অনেকটা স্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য। তার পরও প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতবদল হয় চৌমাথা বাজারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বাজারের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মাছ এবং সবজি উচ্চমূল্যে বিক্রি করেন। তাদের বিশ্বাস, যাদের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ আছে, তারাই এ বাজারের ক্রেতা। কেউ কেউ বলছেন, এ বাজারের বড় মাছ উপঢৌকন হিসেবেও যাচ্ছে এলিট শ্রেণির ঘরে। এ ধারণার ওপর ভিত্তি করেই বাজারটি এখন ‘ঘুষের বাজার’ নামে পরিচিত।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ছিলেন প্রলয় চিসিম। চৌমাথা বাজারে মাছ কিনতে গিয়ে উচ্চমূল্যের কারণে ফিরে আসেন তিনি। সে সময় বাজারটির নামের সঙ্গে তকমা লাগিয়ে দেন ‘ঘুষের বাজার’। ওই সময় এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে সাবেক এই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নিজেই ঠাট্টাছলে কথাটা বলেছিলেন সবার সামনে: ‘যাদের ঘুষের টাকা আছে তারাই এই বাজার থেকে মাছ কিনতে পারে। এ কারণে আমি এটির নাম দিয়েছি ঘুষের বাজার।’ তবে ২০১৯ সালে নয়, চৌমাথার এই বাজারটি ‘ঘুষের বাজার’ নামে পরিচিতি পায় আরও অন্তত ১৫-২০ বছর আগে। তার এ তকমার কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে।

বাজারটিতে সর্বপ্রথম যে চারজন ব্যবসায়ী ছিলেন তাদের মধ্যে তিনজনই মৃত্যুবরণ করেছেন অনেক আগেই। তারা হলেন জিতু, কিরণ বাবু ও আজমল। শুধু বেঁচে আছেন মো. শাহজাহান মিয়া। বর্তমানে তিনি ওই বাজারের আটজন আড়তদারের মধ্যে একজন। মো. শাহজাহান মিয়া জানান, প্রায় অর্ধশত বছর আগে হাতেম আলী কলেজের সামনে তারা চারজন মাছের ব্যবসা করতেন। পরে মহাসড়কের পাশে একটি স্টলের মধ্যে তাদের এই ব্যবসা চলছিল। পরবর্তী সময়ে পাশেই বিলের মধ্যে বর্তমান বাজারটি স্থাপন করে সিটি করপোরেশন। তিনি বলেন, বাজারটির অনেক নামডাক ছিল। মাত্র ২০ বছর আগেও ঢাকা থেকে বড় ব্যবসায়ীরা আসতেন এ বাজারে। তারা বাজারে এসে একসঙ্গে পুরো মাসের মাছ কিনে নিতেন। এখনো মাঝেমধ্যে অনেকে আসেন। এ কারণে স্থানীয় অনেকে বাজারটিকে ‘ঘুষের বাজার’ বলে অপপ্রচার শুরু করে। বাস্তবে তেমনটি না। একই কথা বললেন মাছ ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান জিহাদ। তিনি বলেন, বরিশালের সব বাজার ঘুরেও যে মাছ পাওয়া যাবে না, তা এই বাজারে পাবেন। তাও একদম স্থানীয় নদ-নদীর তাজা মাছ। আর ভালো মাছ কিনতে হলে দাম একটু বেশি দিতেই হয়। যখন কেউ বেশি দামে তাজা মাছ কিনতে পারে না, তখন বলে ‘ঘুষের বাজার’। এটা বলে তারা বাজারের ঐতিহ্য ধ্বংস করে ফেলেছে। আগের মতো এখন আর ক্রেতাও আসে না। কিছু মানুষের অপপ্রচারের কারণে আমরা এখন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। অন্য বাজারের তুলনায় চৌমাথা বাজারে মাছের দাম বেশি হওয়ার কথা স্বীকার করলেন আরেক মাছ ব্যবসায়ী বাইজিদ শাহ। তবে অন্য বাজারগুলোর তুলনায় এ বাজারের মাছের মান অনেক ভালো বলে দাবি এ ব্যবসায়ীর। বাইজিদ বলেন, ‘এই বাজারে আমি ২১ বছর মাছের ব্যবসা করি। এ বাজারের মাছ সবচেয়ে ভালো। অন্য বাজারগুলোতে দেখা যায়, ১০ পিস মাছ কিনলে ভেতরে একটি খারাপ মাছ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের এখানে সে সুযোগ নেই, যে কারণে মাছটার ভালো দামও একটু বেশি নেওয়া হয়। এজন্য ঢাকা থেকেও লোক এখানে এসে মাছ নিয়ে যায়। এখানে বরফ ছাড়াও পাওয়া যায়, বরফ দেওয়া মাছও পাওয়া যায়।’

স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, অনেক বছর আগে দেখা যেত, এক মাস পরে এসে লাখ লাখ টাকার মাছ একজনেই কিনে নিয়েছেন। এ কারণে অনেকেই চোখে পড়েছেন। তাই বলছে ‘ঘুষের বাজার’ বা কাউকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার জন্য মাছ কিনে নেওয়া হয়েছে।

অপর ব্যবসায়ী মো. জিহাদ বলেন, কিছু মাছ আছে যা অন্য বাজারে পাওয়া যায় না। কিন্তু এ বাজারে সব সময় নদী-সাগর, বিল—সব ধরনের মাছ পাওয়া যায়। বি

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo