শিরোনামঃ
বাস-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ২ প্রবাসীসহ নিহত ৩ ডিসেম্বরকে ‘টার্গেট’, মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের চিকিৎসক-নার্স সংকট, নেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র: মেহেন্দিগঞ্জে স্বাস্থ্যসেবায় নাজুক পরিস্থিতি নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে মৃত ৬৩৩, নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার বরিশালে সাইবার মামলায় র‍্যাবের হাতে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হালিম গ্রেপ্তার  বরিশাল বিমানবন্দরে অচলাবস্থা ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী বরিশালে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা বরিশালে মসজিদের ভেতরে মিলল এক মুয়াজ্জিনের মরদেহ আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের যেসব জেলায় বন্যা হতে পারে

চিকিৎসক-নার্স সংকট, নেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র: মেহেন্দিগঞ্জে স্বাস্থ্যসেবায় নাজুক পরিস্থিতি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Sunday, August 30, 2026,
  • 4 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি :: চিকিৎসক-নার্স সংকট, নেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র: মেহেন্দিগঞ্জে স্বাস্থ্যসেবায় নাজুক পরিস্থিতি

 

 

চারদিকে নদী, যোগাযোগে নানা সীমাবদ্ধতা, এমন এক জনপদ মেহেন্দিগঞ্জ। বরিশাল জেলার সবচেয়ে দুর্গম এ উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ মানুষের বসবাস। ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি, মৎস্য ও দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল। গুরুতর অসুস্থতা কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে জেলা শহরে ছুটে যাওয়া তাদের জন্য সময় ও অর্থ দুই দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ। তাই স্থানীয় মানুষের কাছে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই শেষ ভরসা।

৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকেন প্রায় ১০০ রোগী। কখনো কখনো সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩০ থেকে ১৪০ জনে। ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে শয্যার সংকট চরমে উঠেছে। জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় শুয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বহির্বিভাগেও প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষ।

অথচ বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৬ জন। অনুমোদিত চিকিৎসক পদের সংখ্যা ৫০। ৩৬টি নার্স পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২১ জন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাত্র ২ জন। নেই পর্যাপ্ত ওয়ার্ড বয়, আয়া ও ল্যাব-সংশ্লিষ্ট কর্মী। ফলে রোগীর চাপ যত বাড়ছে, ততই দীর্ঘ হচ্ছে চিকিৎসা পাওয়ার অপেক্ষা।

মেহেন্দিগঞ্জ হাসপাতালের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি রোগ নির্ণয়ের সুযোগ না থাকা। হাসপাতালে নেই আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে মেশিন। এমনকি সেল কাউন্টার না থাকায় সিবিসিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও করা যায় না।

ফলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করাতে রোগীদের ছুটতে হয় বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এতে চিকিৎসার খরচ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। নিম্নআয়ের অনেক রোগী বাড়তি টাকা জোগাড় করতে না পেরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়াই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

উলানিয়ার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা এমদাদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে প্রথমে টিকিটের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এরপর চিকিৎসক দেখানোর জন্যও দীর্ঘ সারি। চিকিৎসক কম থাকায় রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা হাসপাতালের বাইরে গিয়ে টাকা দিয়ে করাতে হয়।

মেহেন্দিগঞ্জের দুর্গমতা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে। হাসপাতাল থেকে জটিল রোগীকে বরিশালে পাঠানো হলে স্বজনদের শুরু হয় নতুন দুশ্চিন্তা। মেহেন্দিগঞ্জ থেকে বরিশাল সদরে যেতে স্বাভাবিকভাবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। দ্রুতগতির স্পিডবোটেও লাগে প্রায় এক ঘণ্টা।

পাতারহাট বন্দরের বাসিন্দা হানিফের অভিজ্ঞতা সেই দুর্ভোগেরই উদাহরণ। তিনি জানান, কাচে হাত কেটে যাওয়ার পর মেয়েকে মেহেন্দিগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখান থেকে দ্রুত বরিশালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। পরে প্রায় ২ ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে মেয়েকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকের নির্দেশে একজন ওয়ার্ড বয় তার মেয়ের হাতে সেলাই করে দেন।

হানিফের প্রশ্ন, মেহেন্দিগঞ্জ হাসপাতালে যে সেবা পাওয়া গেল না, বরিশালে গিয়ে একজন ওয়ার্ড বয় কীভাবে সেই সেবা দিলেন?

একসময় দুর্গম মেহেন্দিগঞ্জের রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পরই সেটি অচল হয়ে পড়ে। এখন জরুরি রোগী নিয়ে বরিশালে যেতে হলে অনেকটাই নির্ভর করতে হয় ভাড়ায় চালিত স্পিডবোটের ওপর।

একটি স্পিডবোট রিজার্ভ করতে খরচ হয় প্রায় ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। দরিদ্র পরিবারের জন্য এই খরচ বহন করা কঠিন। সামর্থ্য না থাকলে অনেকে লঞ্চে করে রোগী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেন। এতে জরুরি চিকিৎসা পেতে আরও সময় লাগে।

হাসপাতালের ২টি অ্যাম্বুলেন্সের একটিও অচল। অন্যটি সচল থাকলেও সেটির অবস্থাও নাজুক। পুরো উপজেলার রোগী পরিবহনের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকায় একজন রোগীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে ফিরে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় অন্য রোগীর স্বজনদের। তখন বিকল্প হিসেবে থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশাই হয়ে ওঠে ভরসা। অথচ সড়কের বেহাল অবস্থায় অসুস্থ রোগী নিয়ে এসব যানবাহনে চলাচলও কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ১০০ রোগী ভর্তি থাকেন। কোনো কোনো দিন তা ১৪০ জন পর্যন্ত পৌঁছায়। শয্যা না পেয়ে রোগীদের বারান্দায় অবস্থান করতে হয়। একই সাথে বহির্বিভাগে কয়েকশ রোগীর চাপ থাকায় পুরো হাসপাতালজুড়েই তৈরি হয় ভিড় ও বিশৃঙ্খলা।

রোগীর তুলনায় চিকিৎসক কম হওয়ায় একজন চিকিৎসককে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রোগী দেখতে হচ্ছে। নার্স সংকটেও বাড়ছে কর্মরতদের ওপর চাপ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, নদীবেষ্টিত ও দুর্গম হওয়ায় মেহেন্দিগঞ্জে চিকিৎসক ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। নিয়োগ দেয়ার পরও অনেক চিকিৎসক বিভিন্নভাবে বদলি নিয়ে চলে যান। ফলে কাগজে-কলমে পদ থাকলেও বাস্তবে সেই সংখ্যক চিকিৎসক পাওয়া যায় না। সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে।

চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। হাসপাতালের কয়েকটি টয়লেট দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন। কোথাও দরজার লক নষ্ট, কোথাও দরজা ভাঙা। ফলে রোগী ও স্বজনদের জন্য টয়লেট ব্যবহারও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাত্র দুজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে এত বড় হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ওয়ার্ড বয়ের সংকট থাকায় রোগীদের দৈনন্দিন সহায়তার ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফও) ডা. মোহাম্মদ ইমরানুর রহমান বলেন, হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল অনেক কম। ৫০ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৬ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ৬স জন চিকিৎসক দিয়ে ৫০ জনের সেবা দেয়া সম্ভব নয়। নার্স, আয়া, ওয়ার্ড বয় ও ল্যাব অ্যাটেনডেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ পদেও জনবল সংকট রয়েছে। এ কারণে সেবা দিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

তিনি বলেন, শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে সচি

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo