নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি গ্রামে রাস্তা না থাকায় বাঁশে ঝুলিয়ে হাসপাতালে নেওয়া রোগীর মৃ/ত্য
আগৈলঝাড়ায় একটি গ্রামে রাস্তা না থাকায় বাঁশে ঝুলিয়ে হাসপাতালে নেওয়া রোগীর মৃ/ত্য
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার অবহেলিত একটি গ্রাম পশ্চিম জলিরপাড়।
এই গ্রামের বিভিন্ন শ্রেনী—পেশার প্রায় ৩—৪ হাজার লোকের বসবাস।
যাতায়াতের জন্য নেই কোন রাস্তা। ওই গ্রামের মোনাই অধিকারী (৬০)
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শুক্রবার রাতে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরলে রাস্তা।
না থাকায় দ্রুতগতিতে তাকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারেনি তার
পরিবার। পরদিন শনিবার দুপুরে বাড়ির লোকজন বাঁশের সাথে নেট বেঁধে—
তার ভিতরে অসুস্থ মোনাই অধিকারীকে বসিয়ে কাঁধে করে দেড়
কিলোমিটার পায়ে হেঁটে কোদালধোয়া—বড়মগড়া সড়কে দয়াল ওঝার
দোকানের কাছে নিয়ে আসেন। ওখান থেকে ভ্যান যোগে তাকে নিয়ে
যাওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা
দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। মোনাই অধিকারীর স্বজনরা
উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলেও চিকিৎসায় দেরী
হওয়ায় রোববার তার মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
মোনাই অধিকারী রাতে অসুস্থ্য হয়ে পরলে যদি তাকে ওইদিন রাতেই
পরিবহনে যাতায়াত সুবিধা থাকলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে
তাকে হয়তো বাঁচানো সম্ভব ছিলো বলেন জানান মোনাই’র স্ত্রী রিনা
অধিকারী (৪৫)।
এর পূর্বে একই বাড়ির ব্রজেন হালদারের স্ত্রী কুমদিনী (৯০) হৃদরোগে
আক্রান্ত হলে তাকেও টিনের উপর করে বাড়ির লোকজন দেড় কিলোমিটার
পায়ে হেঁটে মাথায় নিয়ে সড়কে পৌঁছে ভ্যান যোগে তাকে
চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়।
এব্যাপারে একই বাড়ির মোনাইর কাকা শ্বশুর সঞ্জয় হালদার বলেন, মোনাই
অধিকারী রাতে অসুস্থ্য হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় পরের দিন
দুপুরে আমি, শাওন, শ্রীনিবাস, দ্বিপংকর, বিদ্যুৎ ও হৃদয় হালদার বাঁশে—
নেট বেঁধে অসুস্থ মোনাই অধিকারীকে নেটের মধ্যে বসিয়ে কাঁদে
ঝুলিয়ে দয়াল ওঝার দোকানের কাছে সড়কে পৌঁছে ভ্যানে করে হাসপাতালে
যাই। হাসপাতাল থেকে ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র প্রেরন করেন।
এব্যাপারে পশ্চিম জলিরপাড় গ্রামের মালা হালদার (৩০) ও গোলাপী হালদার (৫৫)
জানান, বেশী ভোগান্তিতে পরতে হয় বর্ষাকালে। পায়ে হাঁটা যায়না,
নৌকাও চলে না। এই এলাকায় শিক্ষার্থীরা কোদালধোয়া প্রাথমিক,
মাধ্যমিক ও পূর্ব জলিরপাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে ও সন্তান
সম্ভবা গৃহবধূরা অসুস্থ হয়ে পরলে বেশী ভোগান্তিতে পরতে হয়। ভোটের
আগে অনেক প্রার্থীরা আমাদের যাতায়াতের জন্য রাস্তা করার
প্রতিশ্রম্নতি দেয়। ভোটের পরে আর আমাদের সংবাদ নেয় না।
এব্যাপারে বাকাল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পরিমল হালদার
বলেন, ইউএনও স্যার আমাকে বলেছে মাটির কাজের জন্য কোন বরাদ্দ নেই।
আপনারা স্থানীয়ভাবে মাটির কাজ করলে আমি হেরিংবন্ড’র কাজ করে দেব।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক বলেন,
পশ্চিম জলিরপাড় গ্রামের যে রাস্তাটি হওয়ার প্রয়োজন সে জায়গাটি
দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।