শিরোনামঃ
আগস্টেই ধেয়ে আসতে পারে নিম্নচাপ, হানা দেবে বজ্রঝড় ও তাপপ্রবাহ কুপপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ বরিশাল কীর্তনখোলা নদীর তীরে গভীর রাতে তেল চুরির মহোৎসব, নেপথ্যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট খাল খনন শেষে ৬০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও বরিশালে পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু শেখ হাসিনার বক্তব্যে ভারতের সমর্থন নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরতে চান সাকিব চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ পাচ্ছে বরিশাল মৃত্যুফাঁদে পরিণত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, ঝড়লো আরো এক প্রান বরিশালে লাল ফিতা কেটে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা

কুপপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Saturday, August 8, 2026,
  • 15 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিউজ ডেস্ক :: কুপপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে চুরির অপবাদ দিয়ে এক তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মারধরের পর তার গলায় জুতার মালা পরানো ও মাথার চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে সখিপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে আফসানা সরদার ও আমির নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ছৈয়ালকান্দি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীকে একটি গাছের সঙ্গে বাঁধছেন অভিযুক্ত মনির মোল্লা। এরপর স্থানীয় কয়েকজন নারী ভুক্তভোগী তরুণীকে আঘাত করছেন। কিছুক্ষণ পর তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়া হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তরুণীর মাথার চুলের কিছু অংশ কেটে দেন অভিযুক্তরা

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর এলাকার বাসিন্দা ফারুক ব্যাপারী নদীভাঙনে গৃহহীন হয়ে প্রায় ১৮ বছর আগে ভেদরগঞ্জের সখিপুর এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তিন মাস আগে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ছৈয়ালকান্দি এলাকায় ফৌজিয়া সরদারের বাড়িতে ভাড়া ওঠেন তারা।

পরিবারটির অভিযোগ, বাড়ির পাশের একটি মুদি দোকানের মালিক মনির হোসেন মোল্লা প্রায়ই ফারুক ব্যাপারীর ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতেন। মঙ্গলবার সকালে ওই তরুণী তার ১২ বছর বয়সী বোন ও ৮ বছর বয়সী ভাইকে নিয়ে দোকানে গেলে মনির তাকে কুপ্রস্তাব দেন। তরুণী বিষয়টি বাবা-মাকে জানাবেন বলে প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে তিন ভাইবোনকে পাশের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যানটিনে আটকে রাখা হয়। পরে তাদের ভাড়া বাসার মালিকের একটি কক্ষে নেয়া হয়। এরপর মনির হোসেন, বাড়ির মালিক ফৌজিয়া সরদার এবং তার স্বজন আফসানা বেগম ও নিশি আক্তার মিলে তরুণী ও তার ছোট বোনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

এ সময় তরুণীর গলায় জুতার মালা পরানো হয় এবং মাথার কিছু চুল কেটে দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। খবর পেয়ে সখিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণী ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে

নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী বলেন, মনির আমাকে সব সময় উত্ত্যক্ত করত। ওই দিন সে আমাকে খারাপ প্রস্তাব দিলে আমি রাজি হইনি। পরিবারকে বলে দেয়ার কথা বললে সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে আটক করে। আমাদের তিন ভাইবোনকে দীর্ঘ সময় আটক রাখার পর আমাকে জোর করে ঘর থেকে বের করে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়। এ সময় আমার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়া হয়। আমার পছন্দের চুলের কিছু অংশ কেটে ফেলে তারা। আমি অনেক চিৎকার করে আকুতি-মিনতি করেছি, আমার কোনো কথাই তারা শোনেনি। তাদের এমন বিচার চাই, যেন কোনো অসহায় নারীর ওপর কোনো দিন কেউ এই ধরনের নির্যাতন করার সাহস না পায়।

ভুক্তভোগী তরুণীর মা অভিযোগ করে বলেন, মনির মোল্লার খারাপ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে আমার মেয়ের ওপর অমানুষিক অত্যাচার করা হয়েছে। নির্যাতনের ঘটনার পর অভিযুক্তদের স্বজনের হুমকির কারণে আমরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হই। বর্তমানে আমরা সখিপুর থানা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছি।

শুক্রবার দুপুরে সখিপুর এলাকায় সরেজমিন গিয়ে অভিযুক্ত মনির মোল্লার সঙ্গে কথা হয় চ্যানেল 24-এর প্রতিবেদকের। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি নির্যাতন করেননি দাবি করে ওই তরুণীর বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনেন মনির মোল্লা। তিনি বলেন, বাড়িওয়ালা তাদের বাড়িতে নিয়ে তরুণীকে নির্যাতন করেছে। আমি শুধু তাদের নির্দেশে তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে দিয়েছি।

অপর দুই অভিযুক্ত ফৌজিয়া বেগম ও আফসানা সরদারের বাড়ি গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। তবে ওই তরুণীর বাড়িওয়ালা ফৌজিয়া বেগমের স্বামী তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কিছুক্ষণ পর জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি বলেন, কাজটি ঠিক করেননি তারা। বিষয়টি নিয়ে আমি স্ত্রীর সঙ্গে অনেক রাগারাগি করেছি। দোকানদারের কথায় তারা এ কাজগুলো করেছে।

এদিকে শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে মনির হোসেন মোল্লাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে আফসানা সরদার ও আমির নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসাইন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ওই তরুণী ও তার পরিবারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। প্রথম দিকে পরিবারটির দায়ের করা অভিযোগে কিছু ত্রুটি থাকায় সমাধান করে শুক্রবার রাতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এরই মধ্যে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo