শিরোনামঃ
ভরিতে স্বর্ণের দাম কমল ৭ হাজার ১১৫ টাকা লোডশেডিং নিয়ে বড় দুঃসংবাদ! ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল, ৫৪৭ মরদেহ উদ্ধার ৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে মঠবাড়িয়ায় সুফল কোথায়, মিলছে না নিরাপদ পানি বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ‘তদারকি’ দুই প্রতিমন্ত্রীর হাতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক হলেন জাকির হোসেন এবার নতুন দায়িত্বে জহির উদ্দিন স্বপন ছেলের বটির কোপে মায়ের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে অবশ্যই পরীক্ষা করবো কিছু ভয়-ক্ষুধা, ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা বরিশালে বেঁদে পল্লীতে দুইগ্রুপের হা’মলা-ভা’ঙচু’র ও অ’গ্নি’সংযো’গ, আ’হ’ত ১৫

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ‘তদারকি’ দুই প্রতিমন্ত্রীর হাতে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ Saturday, August 29, 2026,
  • 5 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ‘তদারকি’ দুই প্রতিমন্ত্রীর হাতে

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে সরকারের নজরদারি ও সমন্বয় আরও জোরদার হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডসহ সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুই প্রতিমন্ত্রীকে।

নতুন দায়িত্ব বণ্টনে বিভাগের তিন জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর। তাঁর আওতায় থাকছে বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি। অপরদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসানকে দেওয়া হয়েছে পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালীর দায়িত্ব।

দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে সরকারের চলমান কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয় তৈরি, প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং জনসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ পাবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রতিমন্ত্রী।

পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ সোহেল মনজুর বর্তমানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ওই আসন থেকে নির্বাচিত হন।

নতুন দায়িত্ব অনুযায়ী বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠির প্রশাসনিক কার্যক্রম তাঁর তদারকির আওতায় এসেছে। এসব জেলার উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সরকারি সেবার কার্যকারিতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ থাকবে তাঁর।

বিশেষ করে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ, উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ দায়িত্বকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাজীব আহসান পেয়েছেন পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার দায়িত্ব। তিনি সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নতুন দায়িত্বের আওতায় এসব জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সমন্বয় ও তদারকিতে ভূমিকা রাখবেন তিনি।

দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা, সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন এবং বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়নের সঙ্গে তাঁর মন্ত্রণালয়গুলোর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকায় নতুন দায়িত্বে এসব বিষয়েও বাড়তি গুরুত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

দায়িত্ব বণ্টনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি। শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, নাগরিক সেবা প্রদানে গাফিলতি এবং দুর্নীতির অভিযোগও তদারকির আওতায় আসতে পারে।

একই সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদের।

একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, “জেলা পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমে সমন্বয় যত বাড়বে, তত দ্রুত সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। তবে এ দায়িত্বের কার্যকারিতা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর।”

দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরকারি সেবা নিয়ে মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কোথাও উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি, কোথাও নিম্নমানের কাজ, আবার কোথাও সরকারি দপ্তরে সেবা পেতে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে এসব বিষয়ে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনগণের অভিযোগ দ্রুত শুনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সমাধান, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই এবং সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা বাড়ানোই হবে দায়িত্বটির অন্যতম বড় পরীক্ষা।

আরেকজন স্থানীয় প্রশাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, “প্রতিমন্ত্রীদের তদারকি যদি নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন, প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা যাচাই এবং জনগণের অভিযোগ শোনার সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বাড়তে পারে।”

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা দুই প্রতিমন্ত্রীর তদারকির আওতায় আসায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ের একটি নতুন কাঠামো তৈরি হলো। এতে একদিকে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দ্রুত তুলে ধরার সুযোগও বাড়বে।

তবে শুধু দায়িত্ব বণ্টন নয়, এর বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর হয়—সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার, আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি, উন্নয়ন প্রকল্পের মান নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা কতটা দৃশ্যমান হয়, সেটিই হবে এই নতুন ব্যবস্থার মূল মূল্যায়ন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি হলে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় সরকারি কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ার পাশাপাশি জনসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও আরও শক্তিশালী হতে পারে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...

© All rights reserved © 2021
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo