স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা :: ঘামাচির যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ? পাউডারে স্বস্তি মিললেও কেন নিষেধ করেন চিকিৎসকরা
এখন গরমের সময়। এই সময় নবজাতক থেকে শুরু করে বয়স্কসহ কম-বেশি সবার শরীরেই ঘামাচি হয়ে থাকে।শরীরে ঘামাচি হলেই কেবল এর কষ্ট বোঝা যায়। এ জন্য গরমের সময় এর যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পাউডার
সাধারণত, গরমের সময় হঠাৎ বৃষ্টি, হঠাৎ রোদে বাইরে বের হলে নাজেহাল হয়ে যেতে হয়। ঘামাচির সমস্যাও ক্রমশ বাড়তে থাকে। এটি ঠিক হতে বেশ সময় লাগে বলেই বাজারের প্রচলিত পাউডার ব্যবহার করা হয়। এতে সাময়িক স্বস্তিও পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পর আবার ঘামাচির জ্বালা শুরু হয়। কিন্তু এখন সাময়িক স্বস্তির সেই পাউডার ব্যবহারেও নিষেধ করেন চিকিৎসকরা।
ঘামাচি সাধারণত তিন ধরনের। মিলিয়ারিয়া ক্রিস্টালিনা, মিলিয়ারিয়া রুব্রা ও মিলিয়ারিয়া প্রোফান্ডা। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘামাচির এসব নাম শুনে ভয় লাগা স্বাভাবিক হলেও কোনোটিই ভয়াবহ নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী ঘামাচি হওয়ার কারণ হিসেবে এতে বলা হয়েছে, ঘাম নিঃসরণ হওয়ার গ্রন্থি এবং নালিগুলোর মুখ বন্ধ হলে সেখানে ঘামাচি হয়ে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট ফোস্কার মতো বের হয়ে থাকে, তখন খুব একটা চুলকানি হয় না। যাকে বলা হয় মিলিয়ারিয়া ক্রিস্টালিনা। এর পরবর্তীতে ঘামাচিগুলো লাল র্যাশের মতো হয়ে শরীরে চুলকানি বাড়তে থাকে; যাকে বলা হয় মিলিয়ারিয়া রুব্রা। আর ঘামাচি যখন পেকে পুঁজ বের হওয়া শুরু করে, তখন তাকে বলা হয় মিলিয়ারিয়া প্রোফা
ঘামাচি রোধে পাউডার কতটা কার্যকর:
এ ব্যাপারে ডা. কৌশিক লাহিড়ী জানিয়েছেন, ঘামাচি হলে পাউডার ব্যবহার না করাই ভালো। ঘামাচি রোধে বাজারে বিভিন্ন ধরনের পাউডার পাওয়া গেলেও তাতে আদৌ লাভ হয় না। কিন্তু সেসব ব্যবহারে ঘামের গ্রন্থিগুলো আরও বেশি করে বন্ধ হয়ে সমস্যা বেড়ে যায়। এ জন্য পাউডার না মেখে বারবার গোসল করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
ঘামাচি রোধে করণীয়:
এ চিকিৎসক বলেন, ঘামাচির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে বারবার গোসল করা ছাড়াও ল্যাক্টোক্যালাইমাইন লোশনও ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা অতিরিক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। আবার অ্যান্টি-অ্যালার্জিক সিরাপও খাওয়ার দরকার হতে পারে। তবে ঘামাচি রোধে পাউডার এবং অ্যান্টিসেপটিক সাবান বা লোশন একসঙ্গে বা পাশাপাশি ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের স্টেরয়েড ক্রিমও ব্যবহার করা ঠিক নয়।