নিউজ ডেস্ক :: আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ক্ষমতা গ্রহণের পর আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিল্লি ও ঢাকার সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, উভয় দেশের রাজধানীতেই এ সফরের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সফরটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর, যা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা শামা ওবায়েদ হত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভারত বা জাপান সফর কোনোটা এখনও চড়ান্ত হয়নি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, আমরা তো আগেই বলেছি যে, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে কথা বলে সেটা বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেবে না, নেয় না। তিনি বলেন, জুলাই এখনো মানুষের মনে জাগ্রত আছে। রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। সুতরাং সেই জায়গাটা থেকে অবশ্যই আমাদের সেনসিটিভ হতে হবে। অন্যদিকে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়গুলো স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর হওয়া উচিত নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, ভারতসহ প্রধানমন্ত্রীর কোনো বিদেশ সফরের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সরকার আপস করলে বা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করলে তার জাতীয়তাবাদী রাজনীতি নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠবে।
Executive Branch
তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নিধারণ এবং জবাবদিহির বিষয়গুলো সমাধানের আগে তারেক রহমানের ভারত সফরের বিরোধিতা করেছেন। বলেছেন-ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকা-, ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কাঠামো নিয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন। এনসিপি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন রূপরেখা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারতে যেতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার শাহবাগে নিহত শরীফ ওসমান হাদীর সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
Islam

নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কীভাবে হবে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কীভাবে নতুন করে নিরূপণ হবে, এই প্রশ্নের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারেক রহমান ভারতে যেতে পারবেন না। ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সরাসরি বক্তব্য দেন। ওই সংবাদ সম্মেলনের পেছনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন ছিল বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ভারত সরকার ওই সংবাদ সম্মেলনের দায় নিচ্ছে না এবং বিষয়টি অস্বীকার করছে। এ প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর কোনো একটি স্বাধীনতাকামী সংগঠন ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করলে এবং বাংলাদেশ সরকার সেটির দায় অস্বীকার করলে তা যেমন বিশ্বাসযোগ্য হবে না, দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, দিল্লি থেকে শেখ হাসিনা যা কিছু বলছে, সেগুলোকে শেখ হাসিনার ভাষ্য হিসেবে না নিয়ে দিল্লির ভাষ্য হিসেবে নিতে হবে। ভারত এই বার্তা বাংলাদেশকে দিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, গত ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, দুই দিনের এই দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বাণিজ্য, কানেক্টিভিটি, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিস্তারিত সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দিল্লি।
…..
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশের দাবিসহ একাধিক বিষয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তবে নতুন বিএনপি সরকার জানিয়েছে যে তারা ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চায়। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের পরিবেশ উন্নয়নে গত ১০ আগস্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতেই অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধ